প্রশ্ন : "কি কাজ করে আমি UN থেকে International Recognition পেলাম এবং কিভাবে পেলাম ?
অনেকেই আমাকে প্রশ্ন করেছেন, কিভাবে আমি হঠাৎ করে সুইজারল্যান্ড থেকে ঘুরে আসলাম! অনেকেই এটা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা করেছেন, নানা গল্প সাজাচ্ছেন!
প্রথম কথা হলো, আমার ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড এবং আমার নিজের আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় আমি আজীবন ও সুইজারল্যান্ডের মত স্বপ্নীল এবং ব্যয়বহুল জায়গায় নিজের পা রাখতে পারতাম কিনা জানিনা, তবে ওখানে যাওয়াটা ছিল ছোটবেলা থেকে স্বপ্নের মত।
আমার নেই মামার জোর, নেই টাকার জোর। তবে যা আছে, কাজ করার প্রত্যয়, দৃঢ় আত্মবিশ্বাস এবং স্বপ্ন দেখার সাহস।
এই সাহসের জের ধরেই আমার পরিচিত একজন লোক যখন এই বছরের এপ্রিলের শেষের দিকে আমাকে একটা লিংক পাঠালো একটা ইন্টারন্যাশনাল আর্ট কনটেস্টের জন্য, তখন আমি বিষয়টাকে ভালো মতো পড়ে এপ্লাই করার সিদ্ধান্ত নিলাম। আমি সচরাচর যদিও আর্ট কনটেস্টগুলোতে কাজ দিই না তবে এই কনটেস্টের থিম "INTERSECTIONALITY" সম্পর্কে জেনে কাজ সাবমিট করার সুযোগ হাতছাড়া করলাম না। যেহেতু আমার এই থিমের উপর প্রচুর কাজ করা হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই, কোন কাজগুলো বাছাই করবো এই কনটেস্টের জন্য, তা নিয়ে অনেক বেগ পেতে হয়েছে।
পরে নিচে দেয়া কাজগুলোকে সবচেয়ে যোগ্য মনে করে সাবমিট করলাম। এরপর মাসের পর মাস যায়। জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে এসে হঠাৎ একটা মেইল পেলাম আর্ট সিলেকশন কমিটির কাছ থেকে যে, তাঁরা আমার কাজ ভীষণ পছন্দ করেছে এবং শিগগিরই তারা ফাইনাল রেজাল্ট জানাবে। তারপর ৩১ শে জুলাই OHCHR থেকে আমাকে মেইল পাঠানো হয় যে, আমার কাজ নিয়ে অনলাইনে ছোটখাটো একটা প্রেজেন্টেশন দিতে হবে। সবই ঠিকঠাক মতো করলাম এবং আরও বেশ কয়েকধাপ পার করার পর তাঁরা আমাকে জানালেন যে, আমার কাজ ফাইনালি সিলেক্টেড ফর দ্যা এডওয়ার্ড এবং এই এডওয়ার্ড অনুষ্ঠানটা ভার্চ্যুয়ালি ২ নভেম্বর, ২০২৩ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে। সবকিছু মিলিয়ে তখনও এতটা উত্তেজনায় ছিলাম না এবং এইটা সম্পর্কে আমার কাছের দু'একজন বাদে কেউ জানতো না। নিজের লেখাপড়া,জীবন-জীবিকা নির্বাহ করা নিয়ে আমি ওই সময় খুবই সংকটাপন্ন সময় পার করছিলাম।
লেখাপড়া করলে টাকা থাকে না, টাকা ইনকাম করার জন্য করলে লেখাপড়া হয় না।ওইসময় পেইজে অনিয়মিত হয়ে গিয়েছিলাম। এইরকম এক মুহূর্তে ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ তারিখে আমার কাছে আরেকটা মেইল আসে যে, ২ নভেম্বর এডওয়ার্ড অনুষ্ঠানে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় স্বশরীরে উপস্থিত থাকার জন্য আমাকে নিমন্ত্রণ জানিয়ে এবং সবচেয়ে বড় কথা আমার যাবতীয় খরচ ওনারা বহন করবেন। আমি এতোটা Thrilled ছিলাম ওই মূহুর্তে যে, আমি নিজেকে কোনভাবে সামলিয়ে মেইলের রিপ্লাই দিলাম। তারপর শুরু হলো আসল যুদ্ধ।এত এত ধাপ, এত এত অভিজ্ঞতা, এত এত নিয়ম-নীতি সেই সেপ্টেম্বর ৪ তারিখ থেকে শুরু করে সুইজারল্যান্ড গিয়ে ওখান থেকে বাংলাদেশে ফেরত আসা পর্যন্ত জীবনের সবচেয়ে নাটকীয়, ঘটনাবহুল এবং শিক্ষণীয় এক সময় কাটালাম।
যে আমার জীবনে কোনদিন ফ্লাইটে চড়ার অভিজ্ঞতা ছিল না, কত জল্পনা-কল্পনা ছিল ছোটবেলা থেকে প্লেনে চড়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে, যেই আমার সারাজীবন স্বপ্ন ছিল ইন্টারন্যাশনাল কোন মঞ্চে দাড়িয়ে আমি বক্তব্য রাখবো, আমার মায়ের কথা বলবো,সেই আমি যখন আমার স্বপ্নে বাস করার সুযোগ পেলাম তাও স্বপ্নের মত এক জায়গায়, এত সম্নান আর ভালবাসা নিয়ে, পুরোটাই এখনো এক ঘোরমাখা স্বপ্নের মতোই অবিশ্বাস্য লাগে।
সংগৃহীত : তুফান আর্টবিন পেইজ থেকে।
তুফান চাকমা।

0 Comments